Showing posts with label Pure Muslim. Show all posts
Showing posts with label Pure Muslim. Show all posts

Thursday, February 15, 2018

নামায সঠিকভাবে আদায় করলে পাঁচ প্রকার নিয়ামত!



পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে,

"যে ব্যক্তি সম্মানিত নামায সঠিকভাবে আদায় করবে, মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে পাঁচ প্রকার নিয়ামত দানে সম্মানিত করবেন।

(১) রিযিকের সংকীর্ণতা দূর করে দিবেন।

(২) কবরের আযাব দূর করে দিবেন।

(৩) ক্বিয়ামতের দিন আমলনামা ডান হাতে প্রদান করবেন।

(৪) পুলছিরাত বিদ্যুতের ন্যায় পার করাবেন।

(৫) হিসাব-নিকাশ হতে অব্যাহতি দান করবেন।’ সুবহানাল্লাহ!

হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উপস্থিতিতে ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ পাল

হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উপস্থিতিতে হযরত ছাহাবায়ে কেরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম গণ ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন।



>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>
মীলাদ শরীফ উনার আমলটা স্বয়ং হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যামানায় সাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমগণ উনারা পালন করেছেন !
যেটা সহীহ হাদীস শরীফ উনার কিতাবে এরশাদ মুবারক হয়েছে !!
পবিত্র হাদীস শরীফ সমূহ বর্ননা করেছেন এমন এক ব্যক্তিত্ব যার সম্পর্কে সারা দুনিয়া বাসী সবার আস্থা রয়েছে ! যিনি মুসলমানদের ভিতর সব চাইতে বেশি কিতাব লিখেছেন, যিনি ছিলেন দশম হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ , ইসলামের এমন কোন বিষয় নাই যে বিষয়ে তিনি কিতাব লিখেন নাই ! তিনি ছিলেন হাফিযে হাদীস ,তিনি তিন লক্ষ এরও বেশি হাদীস শরীফ এর হাফিয ছিলেন !
তাফসীর শাস্ত্রে উনার ছিল অগাধ ইলিম !
উনাকে তাজুল মুফাসসিরিন বলা হয় ! তিনি ছিলেন যামানার লক্ষস্থল ইমাম ,খাতেমুল হুফ্ফাজ , রয়িসুল মুহাদ্দেসীন , রেজাল শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞ!
যিনি জাগ্রত অবস্থায় হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
উনাকে সত্তর বারের বেশি দেখেছেন ! উনার তাফসীর সমগ্র মাদ্রাসায় পড়ানো হয় ,উনার তাফসীর না পড়ে কেউ মুফাসসির হয় না, তিনি আর কেউ নন, সবার পরিচিত তাফসীরে জালালাইন
শরীফ এর মুসান্নিফ হযরত আল্লামা জালাল উদ্দীন সূয়ুতী রহমাতুল্লাহি আলাইহি !
উনার সম্পর্কে বলা আছে —
رايت رسول الله صلي الله عليه و سلم في اليقظة بضعا و سبعين مرة
অর্থ : হযরত জালালুদ্দীন সূয়ুতী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আমি আখেরী রসূল হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে জাগ্রত অবস্থায় সত্তর বারের বেশি দেখেছি !”
(আল ইয়াকীতু ওয়াল জাওয়াহের ১ম খন্ড ১৩২ পৃষ্ঠা, দালায়িলুছ ছুলুক)
সেই বিখ্যাত ইমাম, হাফিযে হাদীস, মুজাদ্দিদে জামান জালালুদ্দীন সূয়ুতী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিখ্যাত কিতাব “সুবলুল হুদা ফি মাওলেদে মুস্তাফা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম” এ দুই খানা হাদীস শরীফ বর্ণনা করেছেন!!!
যার মাধ্যম দিয়ে প্রমাণিত হয় হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহু তায়ালা আনহুমগণ উনারা ঈদে মীলাদে হবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষে খুশি প্রকাশ করেছেন। অতঃপর সেখান থেকে পর্যায়ক্রমে এ নিয়ম পালিত হয়ে আসছে।
এ প্রসঙ্গে হাদীস শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,–>>
عَنْ حَضْرَتْ اَبِى الدَّرْدَاءِ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ اَنَّهٗ مَرَّ مَعَ النَّبِىّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِلٰى بَيْتِ عَامِرِ الاَنْصَارِىّ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ وَكَانَ يُعَلّمُ وَقَائِعَ وِلادَتِهٖ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِاَبْنَائِهٖ وَعَشِيْرَتِهٖ وَيَقُوْلُ هٰذَا الْيَوْمَ هٰذَا الْيَوْمَ فَقَالَ عَلَيْهِ الصَّلٰوةُ وَالسَّلامُ اِنَّ اللهَ فَتَحَ لَكَ اَبْوَابَ الرَّحْـمَةِ وَالْمَلائِكَةُ كُلُّهُمْ يَسْتَغْفِرُوْنَ لَكَ مَنْ فَعَلَ فِعْلَكَ نَـجٰى نَـجٰتَكَ
অর্থ : “হযরত আবূ দারদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত আছে যে, একদা তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে হযরত আমির আনছারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার গৃহে উপস্থিত হয়ে দেখতে পেলেন যে, তিনি উনার সন্তানাদি এবং আত্মীয়-স্বজন, জ্ঞাতি-গোষ্ঠী, পাড়া-প্রতিবেশী উনাদেরকে নিয়ে আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ সম্পর্কিত মুবারক ঘটনাসমূহ শুনাচ্ছেন এবং বলছেন, এই দিবস; এই দিবস (অর্থাৎ এই দিবসে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যমীনে তাশরীফ মুবারক এনেছেন এবং ইত্যাদি ইত্যাদি ঘটেছে)। এতদশ্রবণে মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তায়ালা উনার মুবারক রহমত উনার দরজা মুবারকসমূহ আপনার জন্য উম্মুক্ত করেছেন এবং সমস্ত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা আপনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছেন এবং যে কেউ আপনার মত এরূপ কাজ করবে, তিনিও আপনার মত নাযাত (ফযীলত) লাভ করবেন।” সুবহানাল্লাহ!
عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ اَنَّهٗ كَانَ يُـحَدّثُ ذَاتَ يَوْمٍ فِىْ بَيْتِه وَقَائِعَ وِلادَتِهٖ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِقَوْمٍ، فَيَسْتَبْشِرُوْنَ وَيُـحَمّدُوْنَ اللهَ وَيُصَلُّوْنَ عَلَيْهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاِذَا جَاءَ النَّبِىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ حَلَّتْ لَكُمْ شَفَاعَتِىْ
অর্থ : “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি একদা উনার নিজগৃহে সমবেত হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ সম্পর্কিত মুবারক ঘটনাসমূহ শুনাচ্ছিলেন। এতে শ্রবণকারীগণ উনারা আনন্দ ও খুশি প্রকাশ করছিলেন এবং মহান আল্লাহ পাক উনার প্রশংসা তথা তাসবীহ-তাহলীল মুবারক পাঠ করছিলেন এবং মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি (পবিত্র ছলাত শরীফ-পবিত্র সালাম শরীফ) পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠ করছিলেন। এমন সময় নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তথায় তাশরীফ মুবারক নেন এবং (পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠের অনুষ্ঠান দেখে) বললেন, আপনাদের জন্য আমার শাফায়াত মুবারক ওয়াজিব।” সুবহানাল্লাহ!!
(সুবুলুলহুদা ফী মাওলিদিল মুস্তফা ছল্লাল্লাহুআলাই হি ওয়া সাল্লাম – হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমাতুল্লাহি আলাইহি , মাওলুদুল কবীর -হাফিযে হাদীস , ইমামইবনে হাযর মক্কী রহমাতুল্লাহি আলাইহি, আত তানভীর ফী মাওলিদিল বাশীর ওয়ান নাযার -শায়খ হাফিযে হাদীস আবিল খত্তাব ইবনে দাহিয়্যা রহমাতুল্লাহি আলাইহি , দুররুল মুনাযযাম – সপ্তম অধ্যায় – প্রথম পরিচ্ছেদ,ইশবাউল কালাম, হাক্বীকতে মুহাম্মদী মীলাদে আহমদী ৩৫৫ পৃষ্ঠা ।)
সুবহানাল্লাহ্ !!
সুতরাং অকাট্য দলীল দ্বারা প্রমান হলো হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উপস্থিতিতে মীলাদ শরীফ হয়েছে এবং তিনি নিজে এই কাজের জন্য কি ফযীলত হবে সেটা বর্ননা করেছেন !!
সুতরাং যারা ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিরোধীতা করেন, তারা অপ্রাসঙ্গিক তর্ক না করে পোস্টটা দলীল দ্বারা খন্ডন করুন । দলীল ছাড়া কারো কথা গ্রহনযোগ্য নয় ।

Wednesday, February 14, 2018

Seeking Allah’s Help in Troubled Times


Ayah Kareema: Seeking Allah’s Help in Troubled Times


There is a special prayer of Prophet Yunus (PBUH) that he recited in the belly of the fish. It is described in 87th verse of Surah al-Anbya. This verse is known as “Prayer of Distress” or “Ayah Kareema”, meaning The Glorious Verse.
Ibrahim bin Muhammad bin Sa’ad (RA) narrated from his father that the Messenger of Allah (PBUH) said: [1]
The supplication of Prophet Yunus when he supplicated while in the belly of the whale was: “There is none worthy of worship except You, Glory to You, Indeed, I have been of the transgressors.” So indeed, no Muslim man supplicates with it for anything, ever, except Allah responds to him.

Arabic Text and Translation

Here is the full Arabic text and translation of the verse:
Ayah Kareema: Seeking Allah's Help in Troubled Times

Tafsir of Ayah Kareema

To understand the importance and depth of this verse, we have to briefly go through the biography of Prophet Yunus (PBUH). Life of Prophet Yunus (PBUH) is mentioned in the Quran in Surah Yunus, Surah al-Anbya and Surah as-Saffat.
Allah sent Prophet Yunus (Jonah) ibn Matta (PBUH) to the people of Nineveh, a town in Iraq. He called his people towards faith and righteousness but they rejected and persisted in their disbelief and wrongdoings. Disappointed and frustrated, Prophet Yunus (PBUH) left them in anger, as mentioned in Surah al-Anbya: [2]
And mention the man of the fish, when he went off in anger and thought that We would not decree anything upon him.
Prophet Yunus (PBUH) then boarded a ship, but it got caught up in a storm. People in the ship drew lots to decide to throw someone out of the ship in an effort to lighten the load. Prophet Yunus (PBUH) lost the draw three times. He was thrown out and a fish came and swallowed him. In Surah as-Saffat, Allah says: [3]
And indeed, Jonah was among the messengers. When he ran to the laden ship, And then drew lots and was of those rejected; And the fish swallowed him while he was blameworthy;

The Value of Repentance

In the belly of the fish, Prophet Yunus (PBUH) realized his mistake and called out to Allah. So Allah accepted Prophet Yunus (PBUH)’s supplication and forgave him his error of impatience in deserting his people without waiting for Allah’s Instruction. Allah has revealed this incident in Surah al-Anbya saying: [4]
And he called out within the darknesses, “There is no deity except You; exalted are You. Indeed, I have been of the wrongdoers.” So We responded to him and saved him from the distress. And thus do We save the believers.
In Surah as-Saffat, Allah mentions that had it not been for Prophet Yunus (PBUH)’s sincere repentance and his invocations to Him, he would have stayed in the belly of fish till the Day of Judgment! [5]
Had he not been of them who glorify Allah, He would have remained in its belly till the day when they are raised.
On the other hand, when Prophet Yunus (PBUH) left, the people observed the signs of punishment. They realized their mistakes and went out to the desert asking for Allah’s Forgiveness. Thus, Allah forgave them. Allah says in the Quran in Surah Yunus: [6]
If only there had been a community (of all those that were destroyed of old) that believed and profited by its belief as did the folk of Jonah! When they believed We drew off from them the torment of disgrace in the life of the world and gave them comfort for a while.

Analyzing Ayah Kareema

What makes this prayer so special are the aspects that lie in this single prayer. Which are:
  • Belief or Tawheed
  • Submission to Allah
  • Repentance
While reciting Ayah Kareema, in the first part, one declares his belief in Allah and His Attributes by saying “لا اله الا” or “There is no deity except You”. Therefore, the verse starts with acknowledging the Lordship of Allah.
And in the second part, one glorifies Allah and praises Him as “انت سبحانك” or “Exalted are You.” So here Ayah Kareema declares that all the Glory rests with Him and only He is the Glorified One.
And lastly, Ayah Kareema informs us of the value of repentance. The final part of the verse states that “اني كنت من الظالمين” or “Indeed, I have been of the wrongdoers.”
And we all know that Allah loves those who repent and turn to Him. Allah Himself declares His Love for such people in Surah al-Baqarah. [8]
Surely Allah loves those who turn unto Him in repentance and loves those who purify themselves.

Lessons from Ayah Kareema

Hence, Life of Prophet Yunus (PBUH) guides us to be patient in all matters of our life. We must acknowledge us our mistakes, repent and never lose hope in His Mercy or Forgiveness.
Whenever we are in a difficult or a distressed situation, we should call upon Allah using Ayah Kareema. Allah Himself says in Surah al-Ghafir: [7]
And your Lord says, “Call upon Me; I will respond to you.”
In a nutshell, reciting Ayah Kareema is a good way to overcome our problems and seek the Mercy of Allah.
References
  1. Jami at-Tirmidhi Vol 6, Book 45, Hadith 3505
  2. The Quran 21:87 (Surah al-Anbya)
  3. The Quran 37:139-142 (Surah as-Saffat)
  4. The Quran 21:87-88 (Surah al-Anbya)
  5. The Quran 37:143-144 (Surah as-Saffat)
  6. The Quran 10:98 (Surah Yunus)
  7. The Quran 40:60 (Surah al-Ghafir)
  8. The Quran 02:222 (Surah al-Baqarah)

Thursday, February 8, 2018

সমস্ত কায়িনাতের মহাসম্মানিতা মাতা আলাইহিন্নাস সালাম

হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা ব্যতীত সমস্ত কায়িনাতের মহাসম্মানিতা মাতা আলাইহিন্নাস সালাম। 
সুবহানঅল্লাহ

যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
اَلنَّبِـىُّ اَوْلـٰى بِالْمُؤْمِنِيْنَ مِنْ اَنْفُسِهِمْ وَاَزْوَاجُهٗ اُمَّهَاتُهُمْ
অর্থ: “নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হলেন মু’মিনদের নিকট তাদের জানের চেয়ে অধিক প্রিয় এবং উনার মহাসম্মানিতা ‘আযওয়াজুম মুত্বহহারাত’ (হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম) উনারা হলেন সমস্ত মু’মিন উনাদের মহাসম্মানিতা মাতা আলাইহিন্নাস সালাম।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত সূরা আহযাব শরীফ: সম্মানিত আয়াত শরীফ ৬)
আলোচ্য পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে اَوْلـٰى শব্দ মুবারকখানা ব্যবহার করা হয়েছে। আরاَوْلـٰى শব্দ মুবারক উনার একখানা অর্থ মুবারক হল ‘পিতা’। অর্থাৎ সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হলেন সমস্ত মু’মিন উনাদের মহাসম্মানিত পিতা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। সুবহানাল্লাহ!
এই সম্পর্কে সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ اَبِـىْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِنَّـمَا اَنَا لَكُمْ بِـمَنْزِلَةِ الْوَالِدِ.
অর্থ: “হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমি তোমাদের পিতার ক্বায়িম মাক্বাম তথা মহাসম্মানিত পিতা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।” সুবহানাল্লাহ! (আবূ দাঊদ শরীফ)
অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হলেন সমস্ত মু’মিন উনাদের মহাসম্মানিত পিতা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আর হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা হলেন সমস্ত মু’মিন উনাদের মহাসম্মানিতা মাতা আলাইহিন্নাস সালাম। সুবহানাল্লাহ!
সেটাই আলোচ্য সম্মানিত আয়াত শরীফ উনার মধ্যে স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে,
وَاَزْوَاجُهٗ اُمَّهَاتُهُمْ
অর্থ: “আর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিতা ‘আযওয়াজুম মুত্বহ্হারাত’ তথা হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা হচ্ছেন সমস্ত মু’মিন উনাদের মহাসম্মানিতা মাতা আলাইহিন্নাস সালাম।” সুবহানাল্লাহ!
কাজেই এ কথা আর বলার অপেক্ষাই রাখে না যে, হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা যেহেতু সমস্ত মু’মিন উনাদের মহাসম্মানিতা মাতা আলাইহিন্নাস সালাম, তাই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন সমস্ত মু’মিন উনাদের মহাসম্মানিত পিতা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। সুবহানাল্লাহ!
এই সম্মানিত আয়াত শরীফ উনার মধ্যে মু’মিন বলতে একমাত্র যিনি খালিক মালিক্ব রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ব্যতীত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারাসহ সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলেই উদ্দেশ্য। সুবহানাল্লাহ! উনারা সকলেই মু’মিন। উনারা প্রত্যেকেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি সম্মানিত ঈমান মুবারক এনেছেন। সুবহানাল্লাহ! কোন হযরত নবী আলাইহিস সালাম উনাকে সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক দেয়া হয়নি, কোনো হযরত রসূল আলাইহিস সালাম উনাকে সম্মানিত রিসালাত মুবারক দেয়া হয়নি; যতক্ষণ পর্যন্ত উনারা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি সম্মানিত ঈমান মুবারক না এনেছেন। সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি সম্মানিত ঈমান মুবারক আনার পরেই মহান আল্লাহ পাক তিনি সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক ও সম্মানিত রিসালাত মুবারক হাদিয়া মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ! এই প্রসঙ্গে স্বয়ং যিনি খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
وَإِذْ أَخَذَ اللهُ مِيثَاقَ النَّبِيِّينَ لَمَا آتَيْتُكُمْ مِنْ كِتَابٍ وَحِكْمَةٍ ثُمَّ جَاءَكُمْ رَسُوْلٌ مُصَدِّقٌ لِمَا مَعَكُمْ لَتُؤْمِنُنَّ بِهٖ وَلَتَنْصُرُنَّهُ قَالَ أَأَقْرَرْتُمْ وَأَخَذْتُمْ عَلَى ذَلِكُمْ إِصْرِي قَالُوا أَقْرَرْنَا قَالَ فَاشْهَدُوْا وَأَنَا مَعَكُمْ مِنَ الشَّاهِدِيْنَ. فَمَنْ تَوَلَّى بَعْدَ ذَلِكَ فَأُولَئِكَ هُمُ الْفَاسِقُونَ.
অর্থ: “আর যখন মহান আল্লাহ পাক তিনি সমস্ত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের থেকে অঙ্গীকার মুবারক গ্রহণ করলেন যে, আপনাদেরকে সম্মানিত কিতাব মুবারক ও হিকমত মুবারক দেয়া হবে। অতঃপর আপনাদের নিকট একজন মহাসম্মানিত রসূল তথা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করবেন এবং তিনি আপনাদের ও আপনাদের কাছে যা কিছু রয়েছে সমস্ত কিছুর তাছদীক্ব বা সত্যায়ন করবেন। আপনারা অবশ্যই অবশ্যই উনার প্রতি সম্মানিত ঈমান মুবারক আনবেন এবং উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিবেন। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন, আপনারা কি তা স্বীকার করে নিলেন এবং এই মর্মে আমার ওয়াদা মুবারক গ্রহণ করলেন? উনারা বললেন, আমরা স্বীকার করে নিলাম। মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন, তাহলে আপনারা সকলে সাক্ষী থাকুন এবং আমিও আপনাদের সাথে সাক্ষী রইলাম। সুবহানাল্লাহ! অতঃপর যে এই ওয়াদা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে অর্থাৎ ওয়াদা মুবারক উনার খিলাফ করবে, তারাই হচ্ছে ফাসিক্ব তথা চরম নাফরমান, কাট্টা কাফির।” (সম্মানিত সূরা আলে ইমরান শরীফ : সম্মানিত আয়াত শরীফ ৮১-৮২)
কাজেই হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা হ”েছন একমাত্র মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অর্থাৎ উনারা ব্যতীত সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারাসহ সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িানাতবাসী সকলেরই মহাসম্মানিতা মাতা আলাইহিন্নাস সালাম। সুবহানাল্লাহ! আর এই কারণেই মহান আল্লাহ পাক তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পর হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে বিবাহ করা সকলের জন্য হারাম ঘোষণা করে দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! এই প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
وَمَا كَانَ لَكُمْ أَنْ تُؤْذُوا رَسُوْلَ اللهِ وَلَا أَنْ تَنْكِحُوا أَزْوَاجَهُ مِنْ بَعْدِهِ أَبَدًا إِنَّ ذَلِكُمْ كَانَ عِنْدَ اللهِ عَظِيمًا.
অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কষ্ট দেয়া এবং উনার মহাসম্মানিত বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পর উনার মহাসম্মানিতা আযওয়াজুম মুত্বহ্হারাত (হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম) উনাদেরকে বিবাহ করা তোমাদের জন্য কস্মিনকালেও জায়িয নেই। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট এটা অনেক বড় অপরাধ।” (সম্মানিত সূরা আহযাব শরীফ: সম্মানিত আয়াত শরীফ ৫৩)

কাজেই উপরোক্ত দলীল-আদিল্লাহ মুবারক দ্বারা অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো যে, হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা হচ্ছেন একমাত্র যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অর্থাৎ উনারা ব্যতীত সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারাসহ সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িানাতবাসী সকলেরই মহাসম্মানিতা মাতা আলাইহিন্নাস সালাম। সুবহানাল্লাহ!

পবিত্র ২২ শে জুমাদাল উলা সম্পর্কে জানা আছে কি?




পিওর ইসলাম গবেষণা ডেস্ক:

কুরআন শরীফে ইরশাদ হয়েছে– আল্লাহ পাক উনার বিশেষ দিন সমূহ স্বরন করুন ! নিশ্চয়ই এতে প্রত্যেক ধৈর্যশীল শোকরগুযার বান্দাদের জন্য নিদর্শনাবলী রয়েছে !”( সূরা ইব্রাহীম ৫)
আল্লাহ পাক এখানে মুসলমানদের বিশেষ দিন সমূহ স্বরন করার জন্য বলছেন। মুসলমানের জন্য বিশেষ দিন কি? যেসকল দিবস ইসলাম, নবিজি, আহলে বাইতদের সাথে সম্পর্কযুক্ত তা-ই মুসলমানের জন্য বিশেষ দিবস। কিন্তু আফসোস হলেও সত্য আজ মুসলমান সেসকল দিবস হতে দূরে।
আজ মুসলমান ইসলামী দিবস পালন না করে করে বৈশাখী পূজা, ভালোবাসা দিবস, থার্টি ফার্ষ্ট, মে দিবস, এপ্রিল ফুল, রবীন্দ্র জয়ন্তী ইত্যাদি নাউযুবিল্লাহ।
মুসলমান ভ্যালেন্টাইন দিবস, বৈশাখী পূজার দিবসের কথা মনে রাখে, মিডিয়া তাকে স্বরন করিয়ে দেয়। কিন্তু আজকে যে ২২ জুমাদাল উলা উম্মতের মা উম্মুল মুমীনিন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে আজিমুশ্বান নিকাহ মুবারক তা কতজন মুসলমান জানেন? কতজন স্বরনে রেখেছেন ? কতজন পালন করবেন?
হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের ফযীলত ও লক্বব মুবারক সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ঈমানদারদের নিকট তাঁদের প্রাণের চেয়েও অধিক প্রিয়। আর উনার মহাসম্মানিত আহলিয়াগণ উনারা মু’মিনগণ উনাদের মাতা।” (সূরা আহযাব শরীফ: আয়াত শরীফ ৬)
উনি আমাদের মা। কিন্তু সন্তান হয়ে আমরা কি করছি ? নিজ মায়ের জন্য আমরা কি করি? আমার মা যেদিন আমার বাবার সংসারে এসেছেন সেদিন পালন করে খুশি বোধ করি।মায়ের জন্য সবকিছু উজাড় করে দেই। তাহলে যিনি মায়ের ও মা সেই খাদিজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম উনার এই বিশেষ দিবসে আমাদের কি করা উচিত?
উম্মত দাবী করে থাকলে বিনা চু চেরায় সকল মুসলমানের উচিত এই দিবসে খুশি প্রকাশ করা, কুরআন শরীফ পাঠ, ইবাদত -বন্দেগী করা, দান ছদকা করা, গরীব দুঃখীদের খাওয়ানো।
উম্মত দাবী করে, সন্তান হয়ে আমরা কি এতটুকু হক্ব আদায় করতে পারিনা ?

pureislam24.blogspot.com

উম্মুল মু’মিনীন হযরত খাদিজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সংক্ষিপ্ত সাওয়ানেহে উমরী মুবারক


উম্মুল মু’মিনীন হযরত খাদিজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সংক্ষিপ্ত সাওয়ানেহে উমরী মুবারক 

النبى اولى با لمؤمنين من انفسهم وازواجه امها تهم
অর্থ : মু’মিনগণ উনাদের নিকট উনাদের জীবনের চেয়ে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অধিক প্রিয়। আর উনার হযরত আযওয়াজুম মুত্বহহারাহ আলাইহিন্নাস সালাম উনারা হচ্ছেন মু’মিনগণ উনাদের মাতা তথা উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম। (পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ-০৬)

অর্থাৎ, মহান আল্লাহ পাক তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আযওয়াজুম মুত্বহহারাহ আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে কায়িনাতবাসীর মাতা হিসেবে ঘোষণা করেছেন। যা দ্বারা উনাদের সীমাহীন মর্যাদা ও বুযুর্গী-সম্মানের বহিঃপ্রকাশ ঘটানো হয়েছে। সঙ্গত কারণেই উনাদের সম্পর্কে জানা, উনাদের সাওয়ানেহ উমরী মুবারক সম্পর্কে অবহিত হওয়া সকলের জন্যই অত্যাবশকীয়।
হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মধ্যে হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি বিশেষ খুছুছিয়ত মুবারকে অধিষ্ঠিত। পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস উনার পবিত্র বিছাল শরীফ গ্রহণের মাস। সঙ্গত কারণেই এ পবিত্র মাসে উনার সীরাত মুবারক আলোচনা-পর্যালোচনা করা অতীব জরুরী। তাই, নি¤েœ সংক্ষিপ্তাকারে উনার সাওয়ানেহে উমরী মুবারক আলোচনা করা হলো।
#পবিত্র বিলাদত শরীফ
সর্বাধিক মশহুর মতে, উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি আমুল ফীলের ১৫ বছর পূর্বে এবং আনুষ্ঠানিক নবুওওয়াত প্রকাশের ৫৫ বছর পূর্বে পবিত্র মক্কা শরীফ উনার মাঝে পবিত্র বিলাদত শরীফ গ্রহণ করেন।
#পবিত্র নসব মুবারক
উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত পিতা খুওয়াইলিদ ইবনে আসাদ ইবনে আব্দুল উযযা ইবনে কুসাই। এ অনুযায়ী উনার পবিত্র নসব মুবারক চতুর্থ ধাপে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র নসব মুবারক উনার সাথে মিলিত হয়েছে। উনার পিতা বনী আসাদের সাইয়্যিদ ছিলেন। হারবুল ফিজারে তিনি ছিলেন আপন গোত্রের অধিনায়ক। উনার মাতা ফাতেমা বিনতে জায়েদ। তিনিও কুরাঈশী ছিলেন। হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মধ্যে হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি নসব মুবারকের দিক থেকে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সর্বাধিক নিকটবর্তী। তাছাড়া মুবারক খিদমতে আসার ধারাবাহিকতায় তিনিই প্রথম।
#পবিত্র শৈশব ও কৈশোর কাল মুবারক
উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি মহান আল্লাহ পাক কর্তৃক পূর্ব হতেই মনোনীত। সঙ্গত কারণেই উনার পবিত্র হায়াত মুবারক অন্যান্যদের থেকে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম হওয়াই স্বাভাবিক। আইয়ামে জাহিলিয়ার সেই কঠিন সময়ে হাতে গোনা যে সব লোক দ্বীনে হানীফে দায়িম ছিলেন উনাদের মধ্যে হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি অন্যতমা। পবিত্র বিলাদত শরীফ গ্রহণের পর হতেই তিনি ছিলেন ব্যতিক্রম। উনার খুব ছুরতী মুবারক সকলকে আশ্চার্যান্বিত করে। উনার হিকমত পূর্ণ ক্বওল শরীফ সকলকে ভাবিয়ে তোলে। উনার স্বতন্ত্র খুছুছিয়ত মুবারক পুরো মক্কা শরীফ জুড়ে উনাকে সুপরিচিতা ও সম্মানিতা হিসেবে অধিষ্ঠিত করে। উনার উসওয়াতুন হাসানাহ চারিত্রিক মাধুর্যতা মুবারকের উৎকৃষ্টতা উনাকে ত্বহিরা লক্বব মুবারকে মশহূর করেছে।
#বিবাহ
উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি যেহেতু বিশেষ বৈশিষ্টে বৈশিষ্ট মন্ডিত হয়েই বেড়ে উঠেছেন, সেহেতু অনেকেই উনার খিদমতে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে। উনার অভিভাবক সব প্রস্তাবই নাকচ করে দেয়। পরিশেষে আবু হালা হিন্দা ইবনে সুয়ারা আততামিমীর সাথে উনার প্রথম শাদী অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু কয়েক বছরের মাথায় আবু হালা মৃত্যুবরণ করেন। এ সংসারে এক ছেলে এবং এক মেয়ে জন্ম গ্রহণ করেন। অল্প বয়সে কন্যা হালা ইন্তেকাল করেন। আর ছেলে হযরত হিন্দা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু সুদীর্ঘ হায়াত মুবারক লাভ করেন। প্রাথমিক যুগে ইসলাম গ্রহণকারীগণ উনাদের মধ্যে তিনি অন্যতম। জঙ্গে জামালে তিনি শাহাদাত বরণ করেন।
উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার দ্বিতীয় বিবাহ অনুষ্ঠিত হয় আতিক ইবনে আবিদের সাথে। তিনিও কয়েক বছরের মাথায় দুনিয়া হতে চির বিদায় নেন। এ সংসারে একজন কন্যা জন্ম গ্রহণ করেন।
#উম্মুল মু’মিনীন হওয়ার ইঙ্গিত
পরপর দু’বার বিধবা হওয়ায় উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি বেশ কষ্ট অনুভব করেন। যাবতীয় কার্যকলাপে বেশ অস্বাভাবিকতা পরিলক্ষিত হয়। এরই মাঝে সংঘটিত হয় এক দ্বৈব ঘটনা।
পবিত্র মক্কা শরীফে মহিলাদের বিশেষ অনুষ্ঠান চলছিল। সকলেই বেশ আনন্দিত সময় কাটাচ্ছিল। কিন্তু উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি ছিলেন গম্ভীর। এমতাবস্থায় এক আগন্তুক জাহির হলেন। তিনি ঘোষণা দিলেন, “হে কুরাঈশ মহিলাগণ! অতি শীঘ্রই পবিত্র মক্কা শরীফে আখেরী নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করবেন। উনার নাম মুবারক সাইয়্যিদুনা হযরত আহমদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আপনাদের মধ্যে যার পক্ষে সম্ভব আপনারা উনার খিদমত মুবারক উনার আঞ্জাম প্রদানের কোশেশ করবেন।” এই ঘটনা সংঘটিত হওয়ার পর হতে উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি আখেরী নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে থাকেন। তিনি আখেরী নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবারক করার দৃঢ় ইচ্ছা অন্তরে লালন করতে থাকেন।
#ব্যবসা-বাণিজ্য
উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার পিতা খুওয়াইলিদ ছিলেন পুরো আরব জাহানের বড় ব্যবসায়ীদের একজন। পিতার ইন্তেকালের পর ওয়ারিশ সত্বে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হন। আবার ক্রমান্বয়ে দু’স্বামীর নিকট হতেও তিনি অনেক সম্পত্তি লাভ করেন। এই অঢেল সম্পত্তি নিয়ে তিনি ব্যবসা পরিচালনা করেন। সুদূর বসরা-সিরিয়া পর্যন্ত উনার বাণিজ্যিক নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে পড়ে। এই বৃহত্তম বাণিজ্যিক কাফেলাকে সততা ও আমানতদারীর সাথে শৃঙ্খলা, যোগ্যতা, সূক্ষ কৌশলের মাধ্যমে পরিচালনার জন্য সুযোগ্য ও বিশেষ বৈশিষ্টপূর্ণ একজন লোক দরকার। কিন্তু অনেক খোজাখুজির পরেও এমন সুযোগ্য লোক নির্ধারণ সম্ভব হয়নি। পরিশেষে দৃষ্টি নিবদ্ধ হলো ‘আল আমীন’ লক্বব মুবারকে মশহূর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি।
উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার অনুরোধের প্রেক্ষিতে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বৃহত্তম বানিজ্যিক কাফেলার তত্ত্বাবধান মুবারক গ্রহণ করেন। এ কাফেলাকে রহমত বরকতে পরিপূর্ণ করেন। অল্প সময়ের ব্যবধানে সে সম্পত্তি কয়েক গুণ বৃদ্ধি হয়ে যায়। কিতাবে উল্লেখ করা হয়, নূরে মুজাস্সাম,হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তত্ত্বাবধান মুবারকের দরূণ উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সম্পত্তি এত পরিমাণে বৃদ্ধি পায় যে সমগ্র মক্কা শরীফ উনার সমস্ত ব্যবসায়ীদের যত সম্পদ, উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার এককভাবে তার চেয়ে অনেক বেশী সম্পদ ছিল। সুবহানাল্লাহ!
#হাবীবী খিদমত মুবারকে তাশরীফ
উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উম্মুল মু’মিনীন হিসেবে পূর্ব হতেই নির্ধারিত। তথাপি কতিপয় আনুষ্ঠানিকতা দরকার। আনুষ্ঠানিক নবুওয়ত প্রকাশের ১৫ বছর পূর্বে নূরে মুজাস্সাম,হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুনিয়াবী হায়াত মুবারক যখন ২৫ বছর,তখন উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার আগ্রহের দরূণ উনাকে শাদী মুবারক করেন। উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি উনার সমস্ত সম্পদ নূরে মুজাস্সাম,হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবারকে হাদিয়া করেন। বলা হয়,উনার উরুস মুবারকের দিনে নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য স্বর্ণের পাত বিছিয়ে দেওয়া হয়। স্বর্ণের সেই পাত সমূহ মাড়িয়ে তিনি হুজরা শরীফে তাশরীফ মুবারক রাখেন। সুবহানাল্লাহ!
#হযরত আওলাদ আলাইহিমুস সালাম
প্রসিদ্ধ, গ্রহণযোগ্য এবং তারযীহপ্রাপ্ত মতে,নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাতজন আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনারা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার মাধ্যমে তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেন। নিম্নে উনাদের সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলো।
#ইবনু রসূল আল আউয়াল আলাইহিস সালাম
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুনিয়াবী হায়াত মুবারক যখন প্রায় সাড়ে ২৭ বছর এবং উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার দুনিয়াবী হায়াত মুবারক যখন প্রায় সাড়ে ৪২ বছর, তখন হযরত ক্বাসিম আলাইহিস সালাম তিনি বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। তিনি শিশু বয়স মুবারকে ২রা রজবুল হারাম শরীফ পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। উনার নাম মুবারক অনুযায়ী নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কুনিয়াত মুবারক আবুল কাসিম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রসিদ্ধি লাভ করেছিল।
#বিনতু রসূল আল উলা আলাইহাস সালাম
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুনিয়াবী হায়াত মুবারক যখন প্রায় সোয়া ২৯ বছর এবং উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার দুনিয়াবী হায়াত মুবারক যখন প্রায় সোয়া ৪৪ বছর, তখন সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাইনাব আলাইহাস সালাম তিনি বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। তিনি উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার পরিপূর্ণ নকশা বা মিছাল মুবারক ছিলেন। উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার বোন হযরত হালাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনার ছেলে সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আস ইবনে রবী আলাইহিস সালাম উনার সাথে দশ বছর বয়স মুবারকে আল উলা বিনতুম মিন বানাতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শাদী মুবারক অনুষ্ঠিত হয়। ৮ম হিজরীর ৮ই মুহররমুল হারাম শরীফ পবিত্র মদীনা শরীফে সাইয়্যিদাতুন নিসা আল উলা আলাইহাস সারাম তিনি দীর্ঘদিন মারিদ্বী শান মুবারক জাহির করে পবিত্র বিছালী শান মুবারক গ্রহণ করেন।
#ইবনু রসূল আছ ছানী আলাইহিস সালাম
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুনিয়াবী হায়াত মুবারক যখন প্রায় ৩১ বছর এবং উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার দুনিয়াবী হায়াত মুবারক যখন প্রায় ৪৬ বছর, তখন হযরত তাইয়্যিব আলাইহিস সালাম তিনি বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। তিনি অল্প বয়স মুবারকে ৮ই রবীউল আউয়াল শরীফ পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন।
#ইবনু রসূল আছ ছালিছ আলাইহিস সালাম
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুনিয়াবী হায়াত মুবারক যখন প্রায় ৩২ বছর এবং উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার দুনিয়াবী হায়াত মুবারক যখন প্রায় ৪৭ বছর, তখন হযরত ত্বহির আলাইহিস সালাম তিনি বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। তিনি অল্প বয়স মুবারকে ১২ই রবীউল আউয়াল শরীফ পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন।
#বিনতু রসূল আছ ছানিয়া আলাইহাস সালাম
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুনিয়াবী হায়াত মুবারক যখন প্রায় ৩৩ বছর এবং উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার দুনিয়াবী হায়াত মুবারক যখন প্রায় ৪৮ বছর, তখন সাইয়্যিদাতুনা হযরত রুকাইয়া আলাইহাস সালাম তিনি বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। উনার দুনিয়াবী হায়াত মুবারক তখন ছয় বছর, তখন আবু লাহাবের বারবার আরজীর প্রেক্ষিতে তার বড় ছেলে উতবার সাথে উনার আক্বদ সম্পন্ন হয়। কিন্তু উনার সাথে তার উরুস হয়নি। আনুষ্ঠানিক নবুওয়ত প্রকাশের চতুর্থ বছর শুরুতে সূরা লাহাব নাযিল হলে আবু লাহাব গোস্বায় এই বিবাহে বিচ্ছেদ ঘটায়। পরবর্তীতে স্বয়ং খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার মুবারক নির্দেশে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন, সাইয়্যিদুনা হযরত উসমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার নিকট উনাকে শাদী মুবারক দেন। দ্বিতীয় হিজরীর রমাদ্বান শরীফ। যখন বদর জিহাদের জোড় প্রস্তুতি চলছিল, তখন সাইয়্যিদাতুন নিসা আছ ছানিয়া আলাইহাস সালাম তিনি মারিদ্বী শান মুবারক গ্রহণ করেন। বদর জিহাদের পরের দিন ১৮ই রমাদ্বান শরীফ যখন বিজয়ের সংবাদ পবিত্র মদীনা শরীফ উনার দ্বারপান্তে, তখন প্রায় ২২ বছর বয়স মুবারকে হযরত সাইয়্যিদাতুন নিসা আছ ছানিয়া আলাইহাস সালাম তিনি বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন।
#বিনতু রসূল আছ ছালিছা আলাইহাস সালাম
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুনিয়াবী হায়াত মুবারক যখন প্রায় ৩৫ বছর এবং উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার দুনিয়াবী হায়াত মুবারক যখন প্রায় ৫০ বছর, তখন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু কুলছুম আলাইহাস সালাম তিনি বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। আবু লাহাবের বারবার অনুরোধের প্রেক্ষিতে তার ছেলে উতাইবার সাথে উনার আক্বদ সম্পন্ন হয়। কিন্তু সাইয়্যিদাতুন নিসা আছ ছানিয়া আলাইহাস সালাম উনার ন্যায় উনার উরুস হয়নি। তার পূর্বেই পবিত্র সূরা লাহাব শরীফ নাযিল হলে আবু লাহাবের আক্বদ ভেঙ্গে দেয়। সাইয়্যিদাতুন নিসা আছ ছানিয়া হযরত রকাইয়া আলাইহাস সালাম তিনি ২য় হিজরীর ১৮ই রমাদ্বান শরীফ পবিত্র পবিত্র বিছালী শান মুবারক গ্রহণ করলে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি খলীফাতুল মুসলিমীন হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার নিকট সাইয়্যিদাতুন নিসা আছ ছালিছা হযরত উম্মু কুলসুম আলাইহাস সালাম উনাকে তৃতীয় হিজরীতে শাদী মুবারক প্রদান করেন। নবম হিজরীতে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাবুক জিহাদ হতে ফিরে আসার পর পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার ৬ তারিখ সাইয়্যিদাতুন নিসা আছ ছালিছা আলাইহাস সালাম তিনি পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন।
#বিনতু রসূল আর রবিয়া’ আলাইহাস সালাম
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুনিয়াবী হায়াত মুবারক যখন প্রায় ৩৭ বছর এবং উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার দুনিয়াবী হায়াত মুবারক যখন প্রায় ৫২ বছর, তখন হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরিপূর্ণ নকশা মুবারক। দ্বিতীয় হিজরীর শেষাংশে উনাকে হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার নিকট শাদী মুবারক দেওয়া হয়। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার পর সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি দুনিয়ার যমীনে প্রায় ছয় মাস অবস্থান মুবারক করেন। ১১ হিজরীর ৩রা রমাদ্বান শরীফ তিনি পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন।
#প্রথম মুসলমান
আনুষ্ঠানিকভাবে ওহী নাযিল মুবারক নাযিল হওয়া শুরু হলে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সর্বপ্রথম উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনাকে অবহিত করেন। তিনিই সর্বপ্রথম পবিত্র ইসলাম গ্রহণ করেন। হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ঈমান আনয়নের ক্ষেত্রে কায়িনাতের সমস্ত মহিলা হতে অগ্রগামী। (কানজুল উমাল)
#আসমানী সালাম
আনুষ্ঠানিক নবুওয়াত মুবারক প্রকাশের পূর্ব হতেই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি প্রবিত্র হেরা গুহায় অবস্থান মুবারক গ্রহণ করেন। সেই সময় উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম প্রায়ই মুবারক খিদমতে গমন করতেন। তারই ধারাবহিহিকতায় একদিন তিনি যাচ্ছিলেন, তিনি পৌছার পূর্বেই হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি এসে বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি আপনার খিদমত মুবারকে আসতেছেন। মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ হতে উনাকে সালাম জানাবেন। অতপর, উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি যখন পৌছলেন। তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বিষয়টি উনাকে জানালেন। অর্থাৎ উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনাকে স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক হযরত জিবরাইল আলাইহিস সালাম উনার মাধ্যমে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র জবান মুবারকে সালাম মুবারক জানিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ।
#খিদমতে একক ব্যক্তিত্ব
পবিত্র ইসলাম উনার সূচনালগ্নে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং ইসলাম উনার খিদমতে উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার বেমেছাল ত্যাগ উনাকে কায়িনাতবাসীর জন্য উসওয়াতুন হাসানাহ বানিয়েছে। যা হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে।
উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীকা আলাইহাস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার আলোচনা মুবারক করতেন, তখন উনার অনেক ছানা-ছীফত মুবারক করতেন। একদা এমনি পরিস্থিতিতে আমি বললাম, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! তিনি তো পবিত্র বিছালী শান মুবারক গ্রহণ করেছেন। এখন মহান আল্লাহ পাক আপনাকে অনেক উম্মুল মু’মিনীন হাদিয়া করেছেন। তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, দেখুন! সমস্ত মানুষ যখন আমাকে অস্বীকার করেছে, তখন কেবল তিনিই আমার প্রতি ঈমান এনেছিলেন। সকলই যখন আমাকে সত্য রসূল হিসেবে গ্রহণ করেনি, তখন কেবল তিনিই আমাকে স্বীকৃতি দিয়েছেন। সকলই যখন আমাকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করেছে, তখন কেবল তিনিই আমার যাবতীয় খিদমত মুবারকের আঞ্জাম প্রদান করেছেন। কেবল তিনিই আমাকে স্বান্তনা প্রদান করেছেন। (তাবারানী)
#প্রত্যক্ষ দর্শী
উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি অনেক অহী মুবারকের প্রত্যক্ষদর্শী। উনার খিদমত মুবারকের প্রেক্ষাপটকে কেন্দ্র করে অনেক আয়াত শরীফ নাযিল হয়েছে। আনুষ্ঠানিক অহী মুবারক নাযিল হলে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে বিষয়টি জানিয়ে উনাকে কম্বল মুবারকে আবৃত করার আদেশ মুবারক প্রদান করেন। মুবারক আদেশ পালনার্থে উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনাকে কম্বল মুবারকে আবৃত করেন।
#শিয়াবে আবু তালিবঃ
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনাকে শাদী মুবারক করেন, তখন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার দুনিয়াবী হায়াত মুবারক ছিল ৪০ বছর। আনুষ্ঠানিক নবুওওয়াত প্রকাশকালে উনার দুনিয়াবী হায়াত মুবারক ৫৫ বছর। আনুষ্ঠানিক নবুওওয়াত প্রকাশের প্রথম দশ বছর সর্ব প্রকার খিদমতের তিনি আঞ্জাম দিয়েছেন। কাফির মুশরিকদের জুলুম-নির্যাতন যখন চরম পর্যায়ে পৌছলো, তখনও তিনি উনার খিদমতে ছিলেন অবিচল। কাফিররা যখন মুসলমানগণ উনাদেরকে শিয়াবে আবু তালিবে তিন বছর অবরুদ্ধ করে রাখলো, তখনও তিনি ছিলেন দৃঢ়চিত্ত। তিনি উনার ধন-সম্পদ, জান-মাল, প্রভাব-প্রতিপিত্তি সমস্ত কিছু বিসর্জন দিয়ে মুবারক খিদমতে একনিষ্টভাবে আঞ্জাম প্রদান করেছেন।
#বিছাল শরীফঃ
আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত নবুওওয়াত উনার ঘোষণার দশম বছরে হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম পবিত্র ১৭ই রমাদ্বান শরীফ ৬৫ বছর বয়স মুবারকে পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। আর উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার বছরকে আমুল হুযন নামে আখ্যায়িত করা হয়।
উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি সুদীর্ঘ ২৫ বছর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবারক উনার আঞ্জাম দেন। উনার সমস্ত সম্পদই মুবারক খিদমতে ব্যয় করেন। সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার প্রচার-প্রসারে উনার সুমহান অবদান বেমেছাল নযীর স্থাপন করেছেন। পারিবারিক, সামাজিক, শারীরিক, মানষিক এবং অর্থনৈতিক সর্ব দিক থেকেই তিনি এককভাবে খিদমত মুবারক করেছেন।
মূলত: উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার মুবারক শানে, মুবারক খুছূছিয়ত, মুবারক হুলিয়া, মুবারক চাল-চলন এবং মুবারক সাওয়ানেহে উমরী উপলব্ধি করতে হলে বর্তমান সময়ে হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার ছোহবত মুবারক উনার কোনো বিকল্প নেই। কেননা, তিনি হলেন নকশায়ে উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম ।
মহান আল্লাহ পাক তিনি মুসলিম মিল্লাতকে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মুবারক শান উপলব্ধি করে উনাদের ব্যাপারে হুসনে যন পোষণ করত: উনাদের হক্ব হাক্বীক্বীভাবে আদায় করার তাওফীক দান করুন। আমীন!
#চিত্রে দেখতে পাচ্ছেন- উম্মুল মুমিনীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম উনার মহাপবিত্র রওজা শরীফ। সুবহানাল্লাহ! যা শত সহস্র বছর ধরে বিশ্ববাসীর নিকট অতীব স্মরনীয়ভাবে চিহ্নিত ছিলো। কিন্তু সৌদী ওহাবী গং ক্ষমতা দখল করার পর এই মহাপবিত্র চিহ্নটুকুও মানুষের দৃষ্টির আড়াল করে দেয়। নাউজুবিল্লাহ।