Showing posts with label Research. Show all posts
Showing posts with label Research. Show all posts

Wednesday, February 21, 2018

বিশ্বের ১০ টি নান্দনিক মসজিদ। Top 10 Islamic Buildings in the World (Islamic Architecture Mosques)


The beautiful Islamic culture is defined by some of the most amazing architectural works in the world. Muslim architecture covers a wide range of structures from forts, tombs, mosques, and palaces. These fascinating structures are found in nations conquered by the Muslims back in the 7th century. Their type of architecture incorporates various architectural styles which include; Byzantine, Indo- Islamic, Sino- Islamic, Indonesian – Malay, Persian, Somali – Islamic and Sahelian- Islamic. These structures attract visitors from around the globe. Here are some of the best...

10 Badshahi Mosque

Located in Lahore, Pakistan. The mosque is one of the famous tourist attractions in Pakistan due to its outstanding beauty. The design blends Islam, Persian and Central Asian architectural styles. The exterior is magnificently decorated with stone carving and marble.

9) Al-Azhar Mosque

The first mosque to be built in the newly established capital Cairo, Egypt. It was primarily designed to be a center for spiritual nourishment to the new Islam converts in ancient Egypt and hence gained the name “City of a Thousand Minarets.” The mosque is of great importance to the Muslim society as it is linked to prophet Muhammad’s daughter Fatimah.

8) Süleymaniye Mosque

Built around 1550 and 1557 by the Ottoman emperor Suleyman. It’s the largest and arguably the most beautiful mosques in Istanbul. The mosque’s interior receives light from more than 100 large stained glass windows. The central dome stands 47m high.

7) Mosque of Córdoba

Located in the heart of Spain. The mosque took the site of a Christian church. The mosque has some outstanding features which include a remarkable 850 columns made marble, Jasper, and porphyry supporting arches. In addition to this are the richly decorated mihrab and a niche in a mosque pointing the holy city of Meca.

6) Citadel of Aleppo

Located in the Syrian city Aleppo. The structure is considered to be one of the largest palaces in the world and dates back to the third millennium BC. The hill upon which the palace is located is of spiritual importance to the Muslims as it is believed that's where Abraham, one of their great prophets, milked his sheep. The palace was used as barracks during the Ottoman empire. A residence, stores and defensive machinery are found behind the walls.

5) Great Mosque of Samarra

Located in Iraq and was built during the reign of Abbasid caliph Al- Mutawakkil around 850. It is probably the most significant mosque in the world having a total area of about 42 acres. The minaret which is 52 meters survived during the Mongolian and Hulagu invasion.

4) Dome of the Rock

Located in Jerusalem, Israel. It is one of the famous and adored Islamic monuments. Built about 55 years after the Arab conquered Jerusalem. The design and ornamentation are linked to the Byzantine architectural style. The site is sacred to both Muslims and Jews; in Islamic culture, it is considered to be a place where prophet Muhamad ascended to heaven, whereas for the Jews it is believed to be where Abraham was to sacrifice Isaac, his son.

3) Jameh Mosque of Isfahan

The mosque is located at the center of Isfahan, Iran. The mosque is one of the oldest buildings in the 8th century during the Seljuk Dynasty. Although the building has undergone renovations one of the oldest elements still standing are the two domes.

2) Alhambra

Located on a hill overlooking the Spanish city of Grenada. Built in the 14th by the  Nasrid dynasty.Most portions of the buildings were destroyed, and however, three parts remain, i.e., the fortress, the royal residence, a cluster of pavilions and gardens.

1) Taj Mahal

Built in 1631, during the reign of emperor Shah Jahan. The building has a quite a fascinating history in that its commission came after the third and favorite wife of Mughal died while delivering their fourteenth child. The mausoleum complex took two decades to complete and is outstanding for its size. The dome at the apex of the central mausoleum stands 73 meters above the ground. This is such a remarkable height in a period where building technology was not that advanced.
It is clear that Islamic society has great and beautiful architectural works. These great works of architecture are an inspiration to the modern world and a source of vast historical knowledge.

পীর মুরীদী এবং মাজার সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর


প্রশ্ন:

কুরআন ও হাদীসের আলোকে পীর ও মাজার সম্পর্কে জানাবেন। কৃতজ্ঞ থাকেবো।


জবাব:


بسم الله الرحمن الرحيم
পীর-মুরীদ কাকে বলে?

পীর শব্দটি ফার্সি। আরবীতে বলা হয় মুরশীদ। মুরশীদ শব্দের অর্থ হল পথপ্রদর্শক। যিনি আল্লাহর আদেশ নিষেধ আল্লাহ তাআলা যেভাবে চান সেভাবে পালন করার প্রশিক্ষণ দেন তার নাম মুরশীদ বা পথপ্রদর্শক। যাকে ফার্সীতে বলে পীর।
“মুরীদ” শব্দটিও আরবী। যার অর্থ হল ইচ্ছাপোষণকারী। যে ব্যক্তি আল্লাহর আদেশ নিষেধ আল্লাহ তাআলা যেভাবে চান সেভাবে পালন করার ইচ্ছা পোষণ করে কোন বুযুর্গ ব্যক্তির হাত ধরে শপথ করে, সে ব্যক্তির নাম হল “মুরীদ”।
এ ব্যাখ্যা থেকে একথা স্পষ্ট হল যে, পীর হবেন শরীয়তের আদেশ নিষেধ পালন করার প্রশিক্ষণদাতা। আর যিনি সে প্রশিক্ষণ নিতে চায় সে শিক্ষার্থীর নাম হল “মুরীদ”।
সুতরাং যে ব্যক্তি নিজেই শরীয়তের বিধান মানে না, নামায পড়ে না, পর্দা করে না, সতর ঢেকে রাখে না বা শরীয়তের আবশ্যকীয় কোন বিধান পালন করে না, সে ব্যক্তি কিছুতেই পীর তথা মুর্শীদ হতে পারে না। কারণ তার নিজের মাঝেই যখন শরীয়ত নেই, সে কিভাবে অন্যকে শরীয়তের উপর আমল করা প্রশিক্ষণ দিবে? নিজেইতো প্রশিক্ষিত নয়।
আর পীর মুরীদির এ পদ্ধতি রাসূলপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে চলে আসছে। রাসূলপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু আল্লাহপাক মুখী হওয়ার প্রশিক্ষণ দিতেন। সাহাবারা রাসূলপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিতেন। বলা যায় রাসূলপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হলেন সবচে’ প্রথম ও বড় পীর, ও সাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হলেন প্রথম মুরীদ।
কুরআন শরীফ ও হাদীস শরীফে পীর মুরিদীর প্রমাণ
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقِينَ (119
অনুবাদ-হে মুমিনরা! আল্লাহকে ভয় কর, আর সৎকর্মপরায়নশীলদের সঙ্গী হয়ে যাও। {সূরা তাওবা-১১৯)
এ আয়াতে কারীমায় সুষ্পষ্টভাবে বুযুর্গদের সাহচর্যে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ (6) صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ
অনুবাদ-আমাদের সরল সঠিক পথ [সীরাতে মুস্তাকিম] দেখান। আপনার নিয়ামতপ্রাপ্ত বান্দাদের পথ। {সূরা ফাতিহা-৬,৭}
সূরায়ে ফাতিয়ায় মহান রাব্বুল আলামীন তাঁর নিয়ামাতপ্রাপ্ত বান্দারা যে পথে চলেছেন সেটাকে সাব্যস্ত করেছেন সীরাতে মুস্তাকিম।
আর মহান আল্লাহপাক উনার নিয়ামত প্রাপ্ত বান্দা হলেন-
الَّذِينَ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ مِنَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِينَ
অনুবাদ:-  যাদের উপর আল্লাহ তাআলা নিয়ামত দিয়েছেন, তারা হল নবীগণ, সিদ্দীকগণ, শহীদগণ, ও নেককার বান্দাগণ। {সূরা নিসা-৬৯}
এ দু’ আয়াত একথাই প্রমাণ করছে যে, নিয়ামতপ্রাপ্ত বান্দা হলেন নবীগণ, সিদ্দীকগণ, শহীদগণ, আর নেককারগণ, আর তাদের পথই সরল সঠিক তথা সীরাতে মুস্তাকিম। অর্থাৎ উনাদের অনুসরণ করলেই সীরাতে মুস্তাকিমের উপর চলা হয়ে যাবে।
যেহেতু আমরা রাসূলপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দেখিনি, দেখিনি সিদ্দীকগণও, দেখিনি শহীদ উনাদের। তাই আমাদের সাধারণ মানুষদের কুরআন  শরীফ,  সুন্নাহ শরীফ থেকে বের করে সীরাতে মুস্তাকিমের উপর চলার চেয়ে একজন পূর্ণ শরীয়তপন্থী হক্কানী বুযুর্গের অনুসরণ করার মাধ্যমে সীরাতে মুস্তাকিমের উপর চলাটা হবে সবচে’ সহজ। আর একজন শরীয়ত সম্পর্কে বিজ্ঞ আল্লাহ ওয়ালা ব্যক্তির অনুস্বরণ করার নামই হল পীর মুরিদী।
রাসূলে কারীম রাসূলপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একাধিক স্থানে নেককার ব্যক্তিদের সাহচর্য গ্রহণ করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। যেমন-
عن أبي موسى رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه و سلم قال ( مثل الجليس الصالح والسوء كحامل المسك ونافخ الكير فحامل المسك إما أن يحذيك وإما أن تبتاع منه وإما أن تجد منه ريحا طيبة ونافخ الكير إما أن يحرق ثيابك وإما أن تجد ريحا خبيثة
অনুবাদ-হযরত আবু মুসা রাঃ থেকে বর্ণিত।রাসূলপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেছেন-সৎ সঙ্গ আর অসৎ সঙ্গের উদাহরণ হচ্ছে মেশক বহনকারী আর আগুনের পাত্রে ফুঁকদানকারীর মত। মেশক বহনকারী হয় তোমাকে কিছু দান করবে কিংবা তুমি নিজে কিছু খরীদ করবে। আর যে ব্যক্তি আগুনের পাত্রে ফুঁক দেয় সে হয়তো তোমার কাপড় জ্বালিয়ে দিবে, অথবা ধোঁয়ার গন্ধ ছাড়া তুমি আর কিছুই পাবে না। {সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৫২১৪, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-৬৮৬০, মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-৩১৯০, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৪৮৩১, সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-৫৬১, মুসনাদে আবী ইয়ালা, হাদীস নং-৪২৯৫, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-১৯৬৬০, মুসনাদুল হুমায়দী, হাদীস নং-৭৭০, মুসনাদুশ শামীন, হাদীস নং-২৬২২, মুসনাদুশ শিহাব, হাদীস নং-১৩৭৭, মুসনাদে তায়ালিসী, হাদীস নং-৫১৫}
এছাড়াও অনেক হাদীস শরীফে নেককার ও বুযুর্গ ব্যক্তিদের সাহচর্য গ্রহণের প্রতি তাগিদ বহন করে। আর সবচে’ বড় কথা হল-বর্তমান সময়ে অধিকাংশ মানুষই পবিত্র দ্বীন ইসলাম বিমুখ। যারাও দ্বীনমুখী, তাদের অধিকাংশই কুরআন হাদীসের আরবী ইবারতই সঠিকভাবে পড়তে জানে না, এর অর্থ জানবেতো দূরে থাক। আর যারাও বাংলা বা অনুবাদ পড়ে বুঝে, তাদের অধিকাংশই আয়াত বা হাদীসের পূর্বাপর হুকুম, বা এ বিধানের প্রেক্ষাপট, বিধানটি কোন সময়ের জন্য, কাদের জন্য ইত্যাদী বিষয়ে সম্যক অবহিত হতে পারে না। তাই বর্তমান সময়ে একজন সাধারণ মানুষের পক্ষে কুরআন সুন্নাহ থেকে নিজে বের করে আল্লাহ তাআলার উদ্দিষ্ট সীরাতে মুস্তাকিমে চলা বান্দার জন্য কষ্টসাধ্য। তাই আল্লাহ তাআলা সহজ পথ বাতলে দিলেন একজন বুযুর্গের পথ অনুসরণ করবে, তো সীরাতে মুস্তাকিমেরই অনুসরণ হয়ে যাবে।
কিন্তু কথা হচ্ছে যার অনুসরণ করা হবে সে অবশ্যই সীরাতে মুস্তাকিমের পথিক হতে হবে। অর্থাৎ লোকটি {মুরশীদ বা পীর} এর মাঝে থাকতে হবে শরীয়তের পূর্ণ অনুসরণ। বাহ্যিক গোনাহ থেকে হতে হবে মুক্ত। কুরআন সুন্নাহ সম্পর্কে হতে হবে প্রাজ্ঞ। রাসূলপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুন্নাতের উপর হতে হবে অবিচল। এমন গুনের অধিকারী কোন ব্যক্তি যদি পাওয়া যায়, তাহলে তার কাছে গিয়ে তার কথা মত দ্বীনে শরীয়ত মানার নামই হল পীর মুরিদী। এরই নির্দেশ আল্লাহ তাআলা কুরআনে দিয়েছেন-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقِينَ (119
অনুবাদ-হে মুমিনরা! আল্লাহকে ভয় কর, আর সৎকর্মপরায়নশীলদের সাথে থাক। {সূরা তাওবা-১১৯)
বিঃদ্রঃ আখেরাতে নাজাত পাওয়ার জন্য মুরীদ হওয়া জরুরী নয়। তবে একজন হক্কানী পীরের কাছে মুরীদ হলে শরীয়তের বিধান পালন ও নিষিদ্ধ বিষয় ছেড়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে নিষ্ঠা আসে মুরুব্বীর কাছে জবাবদিহিতা থাকার দরুন। সেই সাথে আল্লাহর ভয়, ইবাদতে আগ্রহ সৃষ্টি হয়। পক্ষান্তরে বেদআতি, ভন্ড, মাজারপূজারী, বেপর্দা পীরের কাছে মুরিদ হলে ঈমানহারা হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থাকে। বিশেষ করে আটরশী, দেওয়ানবাগী, কুতুববাগী, মাইজভান্ডারী, রাজারবাগী, ফুলতলী, মানিকগঞ্জী, কেল্লাবাবা ইত্যাদী পীর সাহেবের দরবারে গেলে ঈমানহারা হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। তাই সাবধান পীর নির্ধারণের ক্ষেত্রে।
প্রসঙ্গ মাযার
“মাযার” শব্দটি আরবী। বাংলা অর্থ হল যিয়ারতের স্থান। যে স্থানকে যিয়ারত করা হয়, তার নামই মাযার। মুসলমানের কবর যিয়ারত করা জায়েজ। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-
عن ابن بريدة عن أبيه قال قال رسول الله -صلى الله عليه وسلم- « نهيتكم عن زيارة القبور فزوروها فإن فى زيارتها تذكرة
অনুবাদ-হযরত ইবনে বুরাইদা রাঃ তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন। রাসূলপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন-আমি তোমাদের কবর যিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলা, এখন যিয়ারত কর। [কোন সমস্যা নেই।]। কেননা কবর যিয়ারত মৃত্যুকে স্মরণ করে দেয়। {সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৩৭০০, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-২৩০৫, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-১৫৭১, সুনানে দারা কুতনী, হাদীস নং-৬৯}
কবর যিয়ারত করা ছাড়া কবর তথা মাযার ঘিরে আরো যত কাজ করা হয়, তা সবই বিদআত। এসব করা জায়েজ নেই। যেমন-
১-মাযার ঘিরে উরস করা।
২-মাযারে বাতি প্রজ্বলন করা
২-মাযারে মান্নত মানা।
৩-মাযারে গিয়ে দুআ করা। মৃত ব্যক্তির কাছে নিজের প্রয়োজন পূর্ণ করে দেওয়ার আবেদন করা।
৪-মাযারে শিন্নি পাকানো ইত্যাদী সকল কাজই বিদআত ও শরীয়ত গর্হিত কাজ। এসব করা খুবই গোনাহের কাজ। এসবের কোন ভিত্তি ইসলামে নেই। সম্পূর্ণ হারাম এ সকল কাজ।
মাযার ঘিরে উরস করা
স্বীয় কবরকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠান করাকে নিষিদ্ধ করে আল্লাহর নবী ইরশাদ করেন-
عن أبى هريرة قال قال رسول الله -صلى الله عليه وسلم- « لا تجعلوا بيوتكم قبورا ولا تجعلوا قبرى عيدا وصلوا على فإن صلاتكم تبلغنى حيث كنتم (سنن ابى داود-كتاب المناسك، باب زيارة القبور، رقم الحديث-2044
“তোমরা স্বীয় ঘরকে কবর বানিয়োনা। (অর্থাৎ কবরের ন্যায় ইবাদত-নামায, তেলাওয়াত ও যিকির ইত্যাদি বিহীন করনা।) এবং আমার কবরে উৎসব করোনা।(অর্থাৎ বার্ষিক, মাসিক বা সাপ্তাহিক কোন আসরের আয়োজন করনা। তবে হ্যাঁ আমার উপর দুরূদ পাঠ কর। নিশ্চয় তোমরা যেখানেই থাক না কেন তোমাদের দরূদ আমার নিকট পৌঁছে থাকে।(আল্লাহ তায়ালার ফেরেশতারা পৌঁছিয়ে দেন।)” (সুনানে আবু দাউদ: হাদিস নং-২০৪৪/৪০)
এখানে লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে- রাসূলপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজ রওযা মুবারকে উৎসব (উরস) পালন করতে বারণ করেছেন। তাহলে অন্য কে আর এমন আছে যার কবরে তা বৈধ হবে?
হাদিসের বিখ্যাত ব্যাখ্যাকার আল্লামা মুনাভী রহঃ এই হাদিসের ব্যাক্ষা করতে গিয়ে বলেন-
قال المناوي ويؤخذ منه أن اجتماع العامة في بعض أضرحة الأولياء في يوم أو شهر مخصوص من السنة ويقولون هذا يوم مولد الشيخ ويأكلون ويشربون وربما يرقصون فيه منهي عنه شرعا وعلى ولي الشرع ردعهم على ذلك وإنكاره عليهم وإبطاله (عون المعبود-كتاب المناسك باب زيارة القبور-6/23)
“এ হাদিস থেকে বুঝা যায় যে, সাধারণ মানুষ যারা বছরের কোন নির্দিষ্ট মাসে বা দিনে (উরসের নামে) ওলীদের মাযারে একত্রিত হয় এবং বলে-আজ পীর সাহেবের জন্ম বার্ষিকী (মৃত্যু বার্ষিকী), সেখানে তারা পানাহারেরও আয়োজন করে, আবার নাচ গানেরও ব্যবস্থা করে থাকে, এ সবগুলিই শরীয়ত পরিপন্থী ও গর্হিত কাজ। এ সব কাজ প্রশাসনের প্রতিরোধ করা জরুরী। (আউনুল মা’বুদ-৬/২৩)
মাযার ঘিরে বাতি প্রজ্বলন হারাম
عن ابن عباس قال : لعن رسول الله صلى الله عليه و سلم زائرات القبور والمتخذين عليها المساجد والسرج (سنن الترمذى- أبواب الصلاة عن رسول الله صلى الله عليه و سلم ، باب ما جاء في كراهية أن يتخذ على القبر مسجدا-2/136)
“হযরত ইবনে আব্বাস রাঃ থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর নবী সাঃ অভিশম্পাত করেছেন (বেপর্দা) কবর যিয়ারতকারীনী মহিলাদের উপর, এবং সেসব লোকদের উপর যারা কবরকে মসজিদ বানায়(কবরকে সেজদা করে) এবং সেখানে বাতি প্রজ্জ্বলিত করে। (জামি তিরমীযী-২/১৩৬)
উক্ত হাদিসে সুষ্পষ্ট কবরে বাতি প্রজ্জ্বলনকারীর উপর আল্লাহ তায়ালার অভিশম্পাত করেছেন রাসূলপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
মাযারে মান্নত করা হারাম
আল্লাহ ছাড়া কারো নামে মান্নত বা কুরবানী করা যায়না। কারণ মান্নত ও কুরবানী হচ্ছে ইবাদত। আর ইবাদত আল্লাহ ছাড়া কারা জন্য করা জায়েজ নয়। মহান রাব্বুল আলামীন পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন-
قُلْ إِنَّ صَلاَتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ (162) لاَ شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَاْ أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ (163) (سورة الأنعام-162-163)
“আপনি বলুনঃ আমার নামায, আমার কুরবানী এবং আমার জীবন ও আমার মরণ বিশ্ব প্রতিপালক আল্লাহর জন্যই। তাঁর কোন অংশিদার নেই। আমি তা-ই করতে আদিষ্ট হয়েছি এবং প্রথম আনুগত্যশীল। (সূরা আনআম-১৬২-১৬৩)
সূরা কাউসার শরীফে মহান রাব্বুর আলামীন বলেন- فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ (২)( অতএব আপনার পালনকর্তার উদ্দেশ্যে নামায পড়ুন এবং কুরবানী করুন। (সূরা কাউসার-২)
আল্লাহ তাআলা আমাদের দ্বীন পালনের নামে বদ্বীনী কাজ করা থেকে হিফাযত করুন। আমীন। ছুম্মা আমীন।
والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

Thursday, February 8, 2018

পবিত্র ২২ শে জুমাদাল উলা সম্পর্কে জানা আছে কি?




পিওর ইসলাম গবেষণা ডেস্ক:

কুরআন শরীফে ইরশাদ হয়েছে– আল্লাহ পাক উনার বিশেষ দিন সমূহ স্বরন করুন ! নিশ্চয়ই এতে প্রত্যেক ধৈর্যশীল শোকরগুযার বান্দাদের জন্য নিদর্শনাবলী রয়েছে !”( সূরা ইব্রাহীম ৫)
আল্লাহ পাক এখানে মুসলমানদের বিশেষ দিন সমূহ স্বরন করার জন্য বলছেন। মুসলমানের জন্য বিশেষ দিন কি? যেসকল দিবস ইসলাম, নবিজি, আহলে বাইতদের সাথে সম্পর্কযুক্ত তা-ই মুসলমানের জন্য বিশেষ দিবস। কিন্তু আফসোস হলেও সত্য আজ মুসলমান সেসকল দিবস হতে দূরে।
আজ মুসলমান ইসলামী দিবস পালন না করে করে বৈশাখী পূজা, ভালোবাসা দিবস, থার্টি ফার্ষ্ট, মে দিবস, এপ্রিল ফুল, রবীন্দ্র জয়ন্তী ইত্যাদি নাউযুবিল্লাহ।
মুসলমান ভ্যালেন্টাইন দিবস, বৈশাখী পূজার দিবসের কথা মনে রাখে, মিডিয়া তাকে স্বরন করিয়ে দেয়। কিন্তু আজকে যে ২২ জুমাদাল উলা উম্মতের মা উম্মুল মুমীনিন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে আজিমুশ্বান নিকাহ মুবারক তা কতজন মুসলমান জানেন? কতজন স্বরনে রেখেছেন ? কতজন পালন করবেন?
হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের ফযীলত ও লক্বব মুবারক সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ঈমানদারদের নিকট তাঁদের প্রাণের চেয়েও অধিক প্রিয়। আর উনার মহাসম্মানিত আহলিয়াগণ উনারা মু’মিনগণ উনাদের মাতা।” (সূরা আহযাব শরীফ: আয়াত শরীফ ৬)
উনি আমাদের মা। কিন্তু সন্তান হয়ে আমরা কি করছি ? নিজ মায়ের জন্য আমরা কি করি? আমার মা যেদিন আমার বাবার সংসারে এসেছেন সেদিন পালন করে খুশি বোধ করি।মায়ের জন্য সবকিছু উজাড় করে দেই। তাহলে যিনি মায়ের ও মা সেই খাদিজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম উনার এই বিশেষ দিবসে আমাদের কি করা উচিত?
উম্মত দাবী করে থাকলে বিনা চু চেরায় সকল মুসলমানের উচিত এই দিবসে খুশি প্রকাশ করা, কুরআন শরীফ পাঠ, ইবাদত -বন্দেগী করা, দান ছদকা করা, গরীব দুঃখীদের খাওয়ানো।
উম্মত দাবী করে, সন্তান হয়ে আমরা কি এতটুকু হক্ব আদায় করতে পারিনা ?

pureislam24.blogspot.com